তরুণীদের আটকে রেখে পর্নোগ্রাফি তৈরি, স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ এএম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণীদের এনে আটকে রাখার পর জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও তৈরির অভিযোগে একটি চক্রের মূলহোতা স্বামী-স্ত্রী, তাদের দুই ছেলেসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযানে চারজন তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকার রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালীর প্রধান বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া তরুণীদের একজন গোপনে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে সহায়তা চান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চার তরুণীকে উদ্ধার এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি ভিডিও ধারণের যন্ত্র, ছয়টি মুঠোফোন, একটি চাবুক, একটি ছুরি, একটি কাঁচি এবং নগদ এক লাখ আটানব্বই হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের বাসায় এনে মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হতো। এরপর জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে সেসব ভিডিও একটি অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করে অবৈধভাবে অর্থ আয় করত চক্রটি। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক মো. হাবীবুর রহমান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া তরুণীদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।