মক্কা জোটে বাংলাদেশকে পাশে চায় পাকিস্তান জামায়াত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ, ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশকে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।
রোববার করাচিতে দলটির আয়োজিত গাজা মার্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা।
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে নাঈমুর রহমান বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এই জোটে আরও মুসলিম দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো ইসরায়েল মেনে চলছে না এবং এ ক্ষেত্রে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাচ্ছে।
ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের মানুষের পাশে দাঁড়াতে মুসলিম উম্মাহকে সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা। একই সঙ্গে শিয়া ও সুন্নি বিভেদ দূরে রেখে অভিন্ন স্বার্থে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নাঈমুর রহমান জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ গাজা ও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করবে জামায়াতে ইসলামী। ৭ অক্টোবরের পর পেট্রোলিয়াম লেভি, কর ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে দলের পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের বিশেষ করে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে দাবি করে নাঈমুর রহমান বলেন, এরপর গাজায় পরিচালিত ইসরায়েলি অভিযান দেশটির নীতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
হামাসের লড়াইকে বৈধ প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনাতেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একই সঙ্গে আল আকসা মসজিদের স্বাধীনতার জন্য প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের প্রশংসা করে নাঈমুর রহমান বলেন, দৃঢ়তা ও সাহস থাকলে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী বাহিনীকেও চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। ফিলিস্তিনে আরও রক্তপাত ঠেকাতে মুসলিম সরকার ও সেনাবাহিনীর দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের সহায়তায় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের দাতব্য সংস্থা আলখিদমত ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি মূল্যের ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন