ছেলেকে হত্যার ৪৫ দিনের মাথায় গুলিতে প্রাণ গেল বিএনপি নেতা বাবার
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
খুলনার রূপসায় ছেলে জয় ঢালীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার এক মাস ২০ দিনের মাথায় তার বাবা আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত আক্তার ঢালী ৬০ বছর বয়সী। তিনি দুর্জনীমহল গ্রামের বাসিন্দা এবং আইচগাতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আক্তার ঢালী নিজ বাড়ির সামনে বসেছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মাত্র এক মাস ২০ দিনের ব্যবধানে একই পরিবারের বাবা ও ছেলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দুই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে পুলিশ এখনো এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি।
আইচগাতি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা খান জুলফিকার আলী জুলু বলেন, নিহত আক্তার ঢালী আইচগাতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার ছেলে জয় ঢালীকে এর আগে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এবার আক্তার ঢালীও দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হলেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মী মুরাদ জানান, আক্তার ঢালীর ডান পাশের কাঁধের গোড়ার দিকে গুলির আঘাত রয়েছে। একটি মূল গুলির আঘাতের পাশাপাশি শরীরে ছররা গুলির আঘাতও থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদ বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হওয়ায় ঠিক কোথায় গুলি লেগেছে, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে এবং কারা আক্তার ঢালীকে হত্যা করেছে, তা প্রাথমিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আসছে। সেগুলো যাচাই ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।