মসজিদ কমিটির বিরোধে বাড়িতে হামলা, যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে জখম
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে মোহাম্মদ হোসেন নামে এক যুবদল কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার পাশাপাশি তার মা, বোন ও স্ত্রীকেও মারধর করা হয়েছে। হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বস্তল উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মোহাম্মদ হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মা নূর বানু, স্ত্রী তুলি আক্তার ও বোন ইয়াসমিনও হামলায় আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বস্তল উত্তরপাড়া জামে মসজিদের বর্তমান সভাপতি পদে রয়েছেন যুবদল কর্মী মোহাম্মদ হোসেনের শ্বশুর ও বিএনপি নেতা মো. আমানউল্লাহ মিয়া। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সভাপতি পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়ে একই এলাকার বিএনপি কর্মী মাসুদ মিয়া, তার ভাই রোকন উদ্দিন ও মামুন মিয়ার সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়।
এরই জেরে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রোকন উদ্দিনের সঙ্গে মোহাম্মদ হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদ হোসেন রোকন উদ্দিনকে থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রোকন উদ্দিনের নেতৃত্বে মাসুদ মিয়া, মামুন মিয়া, শেখ সাদি, আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন এবং বহিরাগত আলী হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মোহাম্মদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
হামলার সময় ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে ফ্রিজ, টেলিভিশন, আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্রসহ তিনটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় মোহাম্মদ হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার মা, স্ত্রী ও বোনকেও মারধর করা হয়।
আহতদের স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত মোহাম্মদ হোসেনকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মোহাম্মদ হোসেনের বোন আহত ইয়াসমিন অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা তাদের বাড়িতে এসে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে ঘরে ঢুকে তার ভাইকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তাদেরও মারধর করা হয়। হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়িতে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা ও আনুমানিক ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক সেলিম মিয়া বলেন, হামলা ও গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। হামলাকারীরা ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। একজন যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জসিমউদ্দীন বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার গুলিবর্ষণের কথা জানিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারিক বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।