যুবদল-ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ওষুধ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে লুটের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

যুবদল-ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ওষুধ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে লুটের অভিযোগ। ছবি: মনোযোগপ্রকাশ

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে মারধর, দোকান ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে চর রাজিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. সুমন মিয়া।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চর রাজিবপুর থানা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার সকালে সুমন মিয়া বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযুক্তরা হলেন মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢুষমারা থানার পূর্ব সিলেটপাড়া এলাকার মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও চর রাজিবপুরের সবুজবাগ এলাকার মো. রঞ্জু মিয়া (৩৫) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ‘দি ইবনে সিনা’ ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) মো. বজলুর রহমান (৩০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুমন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজিবপুর বাজারের থানা মোড় এলাকায় ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বজলুর রহমানের কাছ থেকে নগদ ও বাকিতে ওষুধ কিনতেন।

সম্প্রতি বকেয়া টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতে বজলুর রহমানের নির্দেশে রঞ্জু মিয়া ও জুয়েল মিয়া তার দোকানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় বকেয়া টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সুমন মিয়াকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হলে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা দোকানের বিভিন্ন ওষুধ নষ্ট করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন। একই সময় ক্যাশ বাক্সে থাকা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন সুমন মিয়া।

এ ছাড়া তাকে প্রাণনাশের এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সুমন মিয়া বলেন, ‘ইবনে সিনা কোম্পানির প্রতিনিধি বজলুরের কাছ থেকে আমি নিয়মিত নগদ ও বাকিতে ওষুধ কিনে আসছি। তার কাছে আমার মাত্র ৭৬৩ টাকা বকেয়া ছিল, যা আমি পরিশোধ করতেও চেয়েছিলাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে এসে আমার ওপর হামলা চালান। তারা আমার দোকানে ভাঙচুর করে ওষুধপত্র নষ্ট করেন এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাই ইবনে সিনা কোম্পানির প্রতিনিধি। রাজিবপুর বাজারের ব্যবসায়ী সুমন মিয়ার কাছে তার প্রায় ৭ হাজার টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাইতে গিয়ে তাকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে জানানোর পর বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য আমি ও রঞ্জু ভাই তার দোকানে যাই।’

তিনি বলেন, ‘সেখানে টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন মিয়া আমার শার্টের কলার ধরেন। পরে ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে আমরা তাকে কোনো মারধর করিনি। তার দোকানও ভাঙচুর করা হয়নি এবং কোনো ওষুধ নষ্ট করা হয়নি। টাকা লুটের অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রঞ্জু মিয়ার মোবাইল ফোনে কল করে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কল কেটে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

চর রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970