সাতক্ষীরায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নের সরদার পাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় মরিয়মের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রাত ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে মরিয়মের মরদেহ গাবুরার সরদার পাড়ায় পৌঁছায়। ঢাকায় ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ সাতক্ষীরায় আনা হয়। পরে সড়ক ও নদীপথ পেরিয়ে মরদেহ পৌঁছে তার জন্মভূমিতে।
মরিয়মের মরদেহের সঙ্গে ছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি ও ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ স্বজনরা।
মরদেহ পৌঁছানোর পর গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদার বাড়ি জামে মসজিদের পাশে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা জানাজায় ইমামতি করেন। এতে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করতে উপস্থিতদের প্রতি আহ্বান জানান।
দাফনের আগে মরিয়মের স্বজনরা তার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
মরিয়মের বড় চাচি মুন্নী আক্তার বলেন, মেয়েটি অনেক মেধাবী ছিল। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা তারা জানেন না। মৃত্যুর রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। মরিয়মের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তারা।
মরিয়মের স্বজন ইয়াহিয়া বলেন, রোববার রাত ৭টার দিকে তারা জানতে পারেন মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর ছড়িয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা তারা জানেন না। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
মরিয়মের জন্মভূমি চৌদ্দরশি গ্রামে বর্তমানে পরিবারের কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না। তবে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় গাজী নজরুল ইসলামের নামে বরাদ্দ করা ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স হয়েছিল ১৯ বছর।
পরে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন তদন্ত ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা।