কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধে চট্টগ্রামে হৃদয়কে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর ওয়্যারলেস কলোনিতে দুই কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধের জেরে মো. হৃদয় নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে নগরের ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ফাইভ স্টার ও সেভেন স্টার নামের দুই কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ কামরুল হৃদয়কে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তালতলা এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন কিশোর তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে তার চাচা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হৃদয় তার বাবার সঙ্গে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতেই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং পাঁচজন কিশোর। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোরকে প্রায় এক সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিরিচ হাতে ভিডিও করতে দেখা যায়। পুলিশের দাবি, ওই কিরিচ দিয়েই হৃদয়ের কানে কোপ দেওয়া হয়। এতে তার কান কেটে যায়। পরে আরও কয়েকজন কিশোর তাকে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে রক্তমাখা কিরিচটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ অভিযান শুরু করে। প্রথমে মোহাম্মদ কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ফাইভ স্টার গোষ্ঠীর সদস্য হৃদয়ের সঙ্গে সেভেন স্টার গোষ্ঠীর সদস্যদের সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে দুই পক্ষের বড় ভাইয়েরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
পুলিশ জানায়, এরপর হৃদয় বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করায় সেভেন স্টার গোষ্ঠীর সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে হৃদয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।