৫ লাখ ধার করে প্রবাসে গিয়ে মৃত্যু, মরদেহ আনতে লাগবে ৩ লাখ

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দারিদ্র্যের সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন বরগুনার ইসমাইল হোসেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বপ্ন পূরণের আগেই প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এখন প্রবাস থেকে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনাটাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মরত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে নিহত হন ৪০ বছর বয়সী ইসমাইল। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল প্রয়োজন হচ্ছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ টাকা। নিহত ইসমাইল বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমজাদ হোসেনের জ্যেষ্ঠ সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাইয়ের মধ্যে ইসমাইল ছিলেন সবার বড়। পড়ালেখা শেষ করেও দেশে কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি শ্রমিক ভিসায় সৌদি আরবে যান ইসমাইল।

প্রবাসে যাওয়ার পর শুরুতে কয়েকদিন বেকার ছিলেন তিনি। পরে এক নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজে যোগ দেন। চাকরি পাওয়ার পর পরিবারের দৈনন্দিন অভাব কিছুটা কমলেও বিদেশ যেতে নেওয়া ঋণের পুরোটা পরিশোধ করতে পারেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ বিমানবন্দর এলাকায় পাইপলাইনের গভীর গর্তে কাজ করছিলেন ইসমাইল। এ সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়লে তিনি মাটির নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিকেল ৫টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছায়।

ইসমাইলের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ বাবা আমজাদ হোসেন। স্বামী হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন স্ত্রী সোনিয়া বেগম। আট বছর আগে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির চার বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

ইসমাইলের স্ত্রী সোনিয়া বেগম বলেন, প্রতিদিন সকালে তার স্বামীর সঙ্গে কথা হতো। বৃহস্পতিবার সকালেও কথা হয়েছে। তখন দুপুরে আবার ফোন দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও ফোন না আসায় স্বামীর সহকর্মীদের ফোন করেন সোনিয়া। বিকেল ৪টার দিকে তারা ইসমাইল দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার খবর জানান।

সোনিয়া বলেন, সেখানকার লোকজন জানিয়েছেন মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু অভাবের সংসারে এত টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

ইসমাইলের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, তিন ছেলের মধ্যে ইসমাইলই বড়। ধারদেনা করে বিদেশে গিয়েছিল ছেলে। উপার্জন করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিল। কিন্তু মাটির চাপায় তার সব শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। মরদেহ আনতে আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে তারা জানতে পেরেছেন। শেষবারের মতো ছেলের মরদেহ নিজ বাড়িতে এনে দাফন করার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি, ইসমাইলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ জন্মভূমিতে দাফনের ব্যবস্থা করা হোক। এ জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কামনা করেছেন তারা। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970