হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) কক্সবাজারে অবস্থান নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল ১৮ বছর এবং পরিচয় দেওয়া হয়েছিল রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর স্ত্রী হিসেবে।

তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাজমিন ও রিয়াজ কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে যাওয়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী বাসে তুলে দেন বলে জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে কক্সবাজারে তাজমিনের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা জানা গেছে।

গত ৭ অক্টোবর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মিয়ার হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় তাজমিন। পরদিন সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা আবাসিক হোটেলটির রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে হোটেলে ওঠে তাজমিন। সেখানে রাজুর স্ত্রী পরিচয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়া হয়।

রেজিস্টারে তাজমিনের নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। সেখানে রিয়াজের পরিচয় দেওয়া হয়েছে বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।

হোটেলটির এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত থাকার পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। হোটেলের রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী জানান, তারা একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাজমিন হত্যাকাণ্ডের পর রিয়াজ তার কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং তাকে বাঁচানোর জন্য অনুরোধ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন রিয়াজ।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এরপর তাজমিন কক্সবাজারে এসে ঘোরাফেরা করে আবার চলে যায়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার আগে রিয়াজ ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট কেটে তাজমিনকে বাসে তুলে দেন। রিয়াজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাসের টিকিটের দাম ছিল ৯০০ টাকা। এসব ঘটনার পর রিয়াজ আপাতত ছুটিতে রয়েছেন বলে জানান ওই সহকর্মী।

তবে রিয়াজের আরেক ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাজমিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের ঝগড়া হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তাজমিনকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান বলে জানা গেছে।

রিয়াজের সহকর্মীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালকের বিস্তারিত তথ্যও তাজমিন রিয়াজকে জানিয়েছিল বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের সরাসরি অবস্থান জানার সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাজমিনের ধর্ষণ ও হত্যার খবর দেখে রিয়াজ স্তম্ভিত হয়ে পড়েন বলে জানান ওই সহকর্মী।

ওই কর্মী আরও জানান, রিয়াজ গত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত আছেন। ঘটনার পর থেকে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970