অপ্রতিম হত্যায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, সর্বোচ্চ শাস্তি চান বাবা

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।

মরদেহ উদ্ধারের ৩১ দিনের মধ্যেই মামলার তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, দুই কিশোরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিদের মধ্যে তিনজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার বাদী অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে ফোন করে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জানান।

ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, অপ্রতিমকে ঘিরেই তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু হত্যাকারীরা সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। তারা দ্রুত বিচার দেখতে চান এবং আদালতের কাছে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেন।

মামলাটির তদন্ত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক রাজীব আহমেদ। তিনি ছিলেন এ মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে সাইফুল ইসলাম তুহিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরা হলেন মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ, মো. কামরুল হাসান এবং তুহিনের বন্ধু মো. সিয়াম। তাদের মধ্যে তুহিনের বয়স ১৯ বছর, ফাহাদের ১৫ বছর, কামরুলের ১৬ বছর এবং সিয়ামের ১৯ বছর।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফাহাদ ও কামরুল কিশোর হওয়ায় শিশু আইন অনুযায়ী অভিযোগপত্রে তাদের শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ জানিয়েছে, তুহিন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তিনজনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, সিয়ামের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা ও পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর অভিযুক্ত সিয়ামের বিরুদ্ধেও হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, অভিযোগপত্রের বিস্তারিত তথ্য এখনো হাতে পায়নি অপ্রতিমের পরিবার। বিশেষ করে দুই কিশোরের বয়স নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছিল পরিবার। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাওয়ার পর আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে পরিবার।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, পুলিশ সুপারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষ করে ৩১ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

তবে শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে অভিযোগপত্র দাখিলের পরপরই আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হয়নি। পুলিশ সূত্র জানায়, ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও ছুটি শেষে রোববার থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970