নবায়নের জন্য পাঠানো ৬২৬ জনের ভিসা বাতিল করল আমিরাত
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬২৬ বাংলাদেশি কর্মীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪১৭ জনের ভিসা নবায়নের জন্য ইতোমধ্যে আমিরাত সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৬২৬ জন বাংলাদেশির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১৭ জনের তালিকা ভিসা নবায়নের উদ্দেশ্যে আমিরাত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের তথ্যও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চাকরি হারানোর কারণে কোনো কর্মীর ভিসা বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় করে যাচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, কর্মরত দেশের আইন ও বিধিবিধান মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল বিষয় বা রাজনৈতিক ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করা এবং কোনো ধরনের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডে জড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে জাল বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। একই সঙ্গে বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও এটি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
এ কারণে ২০১৩ সালের অভিবাসন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ভুয়া তথ্য বা জাল নথি জমা দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এ ব্যয় কমানো এবং দালালচক্রের প্রতারণা ঠেকাতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো একটি স্বতন্ত্র মাইগ্রেশন উইং গঠন করা হয়েছে।