বিদেশে গিয়ে নির্যাতন-প্রতারণার শিকার, দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী কর্মী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

প্রেম, বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। চীনে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে নারী পাচারের অভিযোগে গত কয়েক মাসে ছয়জন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। একইভাবে কম্বোডিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশেও চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিবাসনসংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে নির্যাতন, শোষণ ও প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ৭০ হাজার নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। একই সময়ে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহও দেশে ফিরেছে।

চীনে নারী পাচারের অভিযোগে গত বছরের ৭ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্যান গোউয়ে ও ইয়াং জিকু নামের দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, রানী আক্তার ও মালিনা মারাক নামের দুই নারীকে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে চীনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা। বিমানবন্দরে ওই দুই নারী চীনে যেতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।

পরে একই ধরনের অভিযোগে গত ২৮ মে হু জানজুন ও জিয়াং লিজি নামের আরও দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদেশি নাগরিকরা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামের নারীদের সঙ্গে পরিচিত হন। দীর্ঘদিন যোগাযোগের পর বাংলাদেশে এসে পরিবারের আস্থা অর্জন এবং বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করা হয়। পরে ওই নারীদের বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে নেওয়ার পর অনেক নারীকে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে তারা সেখানে নির্যাতন, শোষণ ও জোরপূর্বক বিভিন্ন কাজে বাধ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

শুধু প্রেম ও বিয়ের ফাঁদ নয়, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়েও নারী পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরা এক নারী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, মাসে এক লাখ টাকা বেতনে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে চাকরির কথা বলে তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। বিদেশ যাওয়ার জন্য তার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।

ওই নারীর অভিযোগ, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও ডলার নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে ব্র্যাক অভিবাসন কল্যাণ কেন্দ্রের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

সৌদি আরবেও চাকরির প্রলোভনে গিয়ে এক বাংলাদেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে আটকে রেখে মারধর, খাবার না দেওয়া এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসা, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকের পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীদের দ্রুত আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেম, বিয়ে কিংবা চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দূতাবাস এবং অভিবাসনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে নারীদের সচেতন করাও জরুরি।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970