নামাজ শেষে লটারির ফল মিলিয়ে দেখেই চমক, পেলেন ৩০ লাখ টাকার পুরস্কার

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সংসারের টানাপোড়েন, জমি হারানোর দুশ্চিন্তা আর পারিবারিক নানা সংকটে হতাশায় দিন কাটছিল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের হানিফ মিয়ার। এরই মধ্যে ৪০ টাকা খরচ করে দুটি লটারির টিকিট কিনেছিলেন তিনি। স্ত্রী নীলা আক্তার অবশ্য এই খরচে খুশি ছিলেন না। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে যেখানে প্রতিটি টাকার হিসাব করতে হয়, সেখানে লটারির টিকিটে ৪০ টাকা খরচ করাকে অপচয়ই মনে হয়েছিল তার।

তবে কয়েক দিন পর সেই টিকিটই পরিবারটির সামনে এনে দিয়েছে বড় সম্ভাবনা। হানিফের দাবি, তার কেনা দুটি টিকিটের একটি ‘বিপিকেএস জাতীয় লটারি-২০২৬’-এর ৩০ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে মিলে গেছে। তবে আনুষ্ঠানিক যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা হানিফ মিয়া। বয়স ৩১ বছর। স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চাকরির পাশাপাশি হাঁসের খামার ও কৃষিকাজ করে সংসার চালান তিনি।

হানিফের শৈশবও কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়ার পর মা হামিদা বেগমকে নিয়ে নানা বাড়িতে বড় হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বসতভিটার জমি নিয়েও পারিবারিক জটিলতায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাজারে লটারির টিকিট বিক্রির খবর পেয়ে কৌতূহল থেকে ২০ টাকা করে দুটি টিকিট কেনেন হানিফ। পরে অনলাইনে লটারির ফলাফল দেখতে গিয়ে একটি নম্বরের সঙ্গে নিজের টিকিটের নম্বরের মিল খুঁজে পান তিনি। প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে সেটি হুবহু মিলে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে তিনি টিকিটটি নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে যান।

সেখানে কর্মকর্তারা টিকিটটি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করেন। এরপর আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন হানিফ ও তার পরিবার।

নীলা আক্তার জানান, ৪০ টাকা দিয়ে লটারির টিকিট কেনায় তিনি স্বামীকে বকাঝকা করেছিলেন। তার ভাষায়, ওই টাকা দিয়ে বাজার থেকে সবজি কিনলেও সংসারের কাজে লাগত। পরে একদিন নামাজ শেষে হানিফ তাকে অনলাইনে লটারির ফলাফল মিলিয়ে দেখতে বলেন। নম্বর মিলে যাওয়ার পর প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। কয়েকবার যাচাই করার পরও ঘটনাটি তাদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে।

পুরস্কারের টাকা সত্যিই পাওয়া গেলে সংসারের আর্থিক সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন নীলা।

হানিফও এরই মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তার পরিকল্পনা, পুরস্কারের অর্থ পেলে নিজস্ব একটি ফার্মেসি প্রতিষ্ঠা করবেন, হাঁসের খামার বড় করবেন এবং পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করবেন।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির জাতীয় লটারি প্রকল্পের পরিচালক হাজী মো. আলম কবির বলেন, প্রথম পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে এখন পর্যন্ত হানিফ মিয়াই মূল টিকিট নিয়ে তাদের কার্যালয়ে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে টিকিটটি সঠিক মনে হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিজয়ী বলা যাবে না।

তিনি জানান, চলতি মাসের ২০ তারিখের পর যাচাই-বাছাই শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এখন হানিফের পরিবারের অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের ফলাফলের জন্য। ৪০ টাকার সেই ছোট্ট টিকিট সত্যিই তাদের জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970