সমু‌দ্রে মাছ ধরতেও চাঁদা দাবির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ইজারা নেওয়া চরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের কাছে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। চর হেয়ার ও চর আগারা এলাকায় এমন অভিযোগের মুখে পড়েছেন রাঙ্গাবালী দক্ষিণ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজালাল মীর।

অভিযোগকারী ও স্থানীয় জেলেদের দাবি, বৈধভাবে ইজারা নেওয়া এলাকায় ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরতে গেলে শাহজালাল মীর ও তার লোকজন বাধা দেন। চাঁদার টাকা না দিলে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় জেলেদের পক্ষে ব্যবসায়ী আ. আজিজ মাহমুদ গত ২২ জুলাই রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। স্থানীয়ভাবে শাহজালাল মীর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. রহমান ফরাজীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে চরমোন্তাজ রেঞ্জ থেকে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে চর হেয়ার ও চর আগারা এলাকা এক বছরের জন্য মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ইজারা নেন আ. আজিজ মাহমুদ ও আ. মান্নান ঢালী। ইজারার মেয়াদ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

জেলে হাসান গাজী অভিযোগ করেন, ইজারাদারদের অধীনে কাজ করা জেলেরা ওই এলাকায় মাছ ধরতে গেলে শাহজালাল মীর তাদের বাধা দেন এবং ছয় লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ করেন জেলে রাজীব খান। তার দাবি, আগেও শাহজালাল মীর ওই এলাকায় চর দখলে রাখতেন। এখনো তিনি অবৈধভাবে সেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তার কারণে জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মৎস্য ব্যবসায়ী আ. মান্নান ঢালী এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে বৈধভাবে চর হেয়ার ও চর আগারা ইজারা নেওয়ার পরও শাহজালাল মীর ও তার লোকজন জেলেদের মাছ ধরতে বাধা দিচ্ছেন। ছয় লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় কয়েকজন জেলেকে মারধর করে চর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মান্নান ঢালী আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুলাইয়েও তিনি একই চর ইজারা নিয়েছিলেন। সে সময়ও শাহজালাল মীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলেদের মারধর করে চর দখলে নিয়েছিলেন। তার দাবি, আগের সরকারের সময়ও ওই এলাকায় চর ও সাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে শাহজালাল মীরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

অভিযোগকারী আ. আজিজ মাহমুদ বলেন, ইজারা নেওয়া চরে মাছ ধরতে গেলে তার জেলেদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। চাঁদাবাজি, মারধর ও দখলমুক্ত পরিবেশে জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপও দাবি করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজালাল মীর। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি টাকা দিয়ে ওই এলাকায় মাছ ধরতেন এবং এখনো একইভাবে মাছ ধরছেন। এ বছর আ. আজিজ মাহমুদ ও আ. মান্নান ঢালী বৈধ অনুমতিপত্র পেয়েছেন—এটি তিনি স্বীকার করলেও মারধর বা চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তাকে ওই চরে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়ার কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. রহমান ফরাজীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে চাননি। চর নিয়ে কথা বললে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে বলে এড়িয়ে যান তিনি।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একাধিকবার থানায় ডাকা হলেও তিনি হাজির হননি।

চরমোন্তাজ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করে যারা বৈধভাবে ইজারা পেয়েছেন, কেবল তারাই ওই এলাকায় মাছ ধরার অধিকার রাখেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970