রাবি প্রশাসনকে ‘ননসেন্স ও গাম্বাট’ বললেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনকে ‘ননসেন্স ও গাম্বাট’ বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। রাকসু ও হল সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের নামে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা বিধিসম্মত নয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১১টি আবাসিক হল এবং মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেশিয়ামের জন্য জিমের সরঞ্জাম সরবরাহ করে রাকসু। পরে হল সংসদগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে এসব সরঞ্জাম আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন রাকসু নেতারা।
রাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১১টি আবাসিক হল ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেশিয়ামের জন্য প্রয়োজনীয় জিমের সরঞ্জাম ঢাকা থেকে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় হল সংসদগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে এসব সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট হলগুলোতে পৃথকভাবে সরঞ্জামগুলোর উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে রাকসু ও হল সংসদের কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানায় প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাকসুর পক্ষ থেকে হল সংসদগুলোর মাধ্যমে জিমনেশিয়ামের সরঞ্জাম সরবরাহসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য ও সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এসব তথ্য ও সংবাদ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে মনে করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এতে আরও বলা হয়, রাকসু ও হল সংসদের মেয়াদ গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে। ফলে ওই তারিখের পর তাদের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা বিধিসম্মত নয়। একই সঙ্গে রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্রসংগঠনের তৎপরতাও বিধিবহির্ভূত।
বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে রাকসু ও হল সংসদের নাম ব্যবহার করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রশাসনের এ বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার মন্তব্য করেন, ‘কত বড় ননসেন্সগুলা, গাম্বাট বসে আছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগোলতে একটাবার চিন্তা করেন।’
তিনি আরও লেখেন, রাকসুর সর্বশেষ অধিবেশন হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর বাজেট উত্তোলন করতে পেরেছেন চলতি মাসের ২১ তারিখে। ১১টি ছেলেদের হল ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেশিয়ামের জন্য সরঞ্জাম অর্ডার করে নিয়ে আসতে সময় লেগেছে।
তার ভাষ্য, এখন আর এসব কাজ করা যাবে না, এমন সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা প্রশাসনের বিবেচনা করা উচিত। অধিবেশনে পাস হওয়া আরও অন্তত এক ডজন কাজ চলমান রয়েছে। সেসব কাজ কি রাকসু শেষ করবে না, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।