ঢাবির শাটলে ছাত্রীর স্বর্ণের দুল ছিনতাই, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলন্ত শাটলে বসা অবস্থায় এক ছাত্রীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এমন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে থাকা এক ব্যক্তি চলন্ত শাটলের পাশে এসে মুহূর্তের মধ্যে ওই ছাত্রীর কান থেকে দুল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের ২০২১ থেকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিট থেকে ৭টা ২৬ মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে।
সানজিদার ভাষ্য, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক তোরণ গেট থেকে শাটলে করে ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছিলেন। শাটলটি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠসংলগ্ন গেটের সামনে পৌঁছালে সাদা জামা পরা এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে শাটলের পাশে আসেন। এরপর হঠাৎ তার কান থেকে টান দিয়ে একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ভিসি চত্বরের দিকে পালিয়ে যান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সানজিদা বলেন, ‘শাটলটি হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠের গেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সাদা জামা পরিহিত এক ব্যক্তি বাইক নিয়ে আমার কান থেকে টান দিয়ে একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেন। পরে দ্রুত ভিসি চত্বরের দিকে পালিয়ে যান।’
হঠাৎ কান থেকে দুল টেনে নেওয়ায় বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। কান ছিঁড়ে যেতে পারত এমন আতঙ্ক এখনো কাটেনি তার। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে চলাফেরা নিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই শিক্ষার্থী।
সানজিদা বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে, তাও আবার চলন্ত শাটলে এরকম ঘটনা ঘটল। আমার হয়তো ভাগ্য ভালো ছিল, কান ছিঁড়ে যায়নি। এখন তো ক্যাম্পাসে বের হতেই ভয় লাগছে। এর সমাধান আদৌ হবে কি না, জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের একদম ভেতরে এ ঘটনা মানতেই পারছি না। ঘটনার পর থেকে হলের বাইরে যেতেও ভয় লাগছে।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন।
তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে আমার এখনো সরাসরি কথা হয়নি। তবে আমরা অভিযোগ দিতে বলেছি। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
এদিকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এ ধরনের ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে উপাচার্য অনুমোদন করেছেন।
তবে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর হলসংলগ্ন সড়ক ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম শাটল। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে চলাচল করা এই পরিবহনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা, দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।