সামনে এলো শিবিরের ৩ চিঠি, রাকসুর জিএস আম্মারের ‘কুকীর্তি’ ফাঁস
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথী পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে। চিঠিগুলোতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, নৈতিক স্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর আম্মারকে শিবির থেকে বহিষ্কারের তিনটি চিঠি সামনে আসে।
প্রথম চিঠিটি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখের। তৎকালীন রাবি শিবিরের সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, সালাউদ্দীন আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সংগঠনের নজরে আসে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখার মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় অভিযোগগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার সাথী পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এরপর একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আরেকটি চিঠিতে জানানো হয়, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং বারবার সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও সংশোধন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আম্মারের সাথী পদ বাতিল করেছেন।
এদিকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত তৃতীয় চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদের তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় আম্মারের সাথী পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
চিঠিতে আরও বলা হয়, উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় তার সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার বর্তমান কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার অভিযোগের কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তার কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া আম্মারের অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর জন্য সংগঠনের সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখার কথা উল্লেখ করে অন্য সব স্তরের জনশক্তিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিগুলোর সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, চিঠিগুলো সত্য। ২০২৫ সালেই সালাউদ্দিন আম্মারকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।