এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন পলিসি

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া এই পরিকল্পনায় কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা, ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রাথমিক তহবিল এবং অকৃতকার্য বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাদের যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী বিকল্প কর্মসংস্থান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।

শনিবার ১০ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড স্টুডেন্টস কনভেনশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষামন্ত্রী এবং দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্থায়ী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভাগ্য পরিবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ এলাকার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থীর নতুন ব্যবসা শুরুর মতো উদ্ভাবনী ধারণা রয়েছে, তাদের জন্য স্বল্প পরিসরে প্রাথমিক তহবিলের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।

এ ছাড়া জাপানি, কোরীয়, চীনা ও ইউরোপীয় ভাষায় তিন থেকে ছয় মাসের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অকৃতকার্য বিষয়ে এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, শুধু মেধার ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হয় না। আর্থিক অসংগতি, শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট কিংবা পরীক্ষার আগে পারিবারিক সমস্যাও খারাপ ফলের কারণ হতে পারে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া মানেই জীবনে ব্যর্থতা নয়। শুধু সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন ও যোগ্যতা বিচার করা যায় না। একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে কারও মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন গণস্বাক্ষরতা অভিযান কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ড. ইরাম মরিয়ম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস এবং ডা. আরিফুর রহমান।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970