মাকে দেখাশোনার জন্য বিয়ে করেননি, সমু চৌধুরীর জীবনে নানা মোড়
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পিএম
বাংলাদেশের টেলিভিশন, মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও ওটিটি মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করছেন সমু চৌধুরী। তিন দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে পাঁচ শতাধিক নাটক ও প্রায় এক ডজন চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। অভিনয়জগতে সাফল্য পেলেও ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই উতরাই, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং পারিবারিক দায়িত্বের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এই অভিনেতাকে।
অভিনয়জগতে যেভাবে পথচলা শুরু
১৯৬৪ সালের ৮ জুন যশোরে জন্মগ্রহণ করেন সমু চৌধুরী। ছাত্রজীবনে যশোর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রায় ১০ বছর পথনাটক, মঞ্চনাটক ও গণসংগীতে অংশ নেন তিনি। পরে ঢাকা উদীচী, ঢাকা থিয়েটার ও নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের সঙ্গেও যুক্ত হন।
১৯৯০ সালের ২২ মার্চ আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিষেক হয় তার। প্রথম নাটকের জন্য সম্মানী হিসেবে পেয়েছিলেন ৭০০ টাকা। এরপর ‘জন্মভূমি’, ‘বিবর্ণ প্রজাপতি’, ‘কালো জোছনা’, ‘রঙের মানুষ’, ‘নিশিকুটুম্ব’ ও ‘উঠোন’সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
চলচ্চিত্র ও ওটিটি মাধ্যমেও সরব
১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘আদরের সন্তান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সমু চৌধুরীর। এরপর ‘মায়ের অধিকার’, ‘দেশ দরদী’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘নদীর নাম মধুমতী’, ‘গলুই’ ও ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যমেও কাজ করেছেন এই অভিনেতা। ২০২৪ সালে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’ এবং ২০২৫ সালে ‘নয়া নোট’সহ বিভিন্ন কাজে তাকে দেখা গেছে।
তবে অভিনয়জীবনের একপর্যায়ে প্রায় তিন বছর কাজ থেকে দূরে ছিলেন সমু চৌধুরী। ঢাকায় কাজ ছেড়ে ফিরে যান যশোরের গ্রামের বাড়িতে। পরে শিল্পী ঐক্য জোটের মাধ্যমে আবারও অভিনয়ে ফেরেন তিনি।
বাবা ও ছোট বোনকে হারিয়ে বদলে যায় জীবন
সমু চৌধুরীর জীবনে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ঘটনাগুলোর একটি ১৯৯৩ সালের ২৬ জুলাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনা। ওই দুর্ঘটনায় বাবা আবুল কাশেম চৌধুরী ও ছোট বোন রোজিনা চৌধুরী রুবিকে হারান তিনি। যশোরের নাভারন থেকে ফেরার পথে ঝিকরগাছা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে ২০১৮ সালে ছোট ভাই সনু চৌধুরীকেও হারান এই অভিনেতা।
বাবা ও ছোট বোনের মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব অনেকটাই তার কাঁধে এসে পড়ে। এক সাক্ষাৎকারে সমু চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মায়ের দেখাশোনার বিষয়টি বিবেচনা করেই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ব্যক্তিজীবনে অবিবাহিত এই অভিনেতার জীবনে মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। পরিবারের প্রতি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবনে বিয়ের মতো সিদ্ধান্ত থেকেও দূরে থেকেছেন তিনি।
২০২৫ সালে মাজারে যাওয়া নিয়ে আলোচনা
২০২৫ সালের জুনে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মুখী শাহ মিসকিন মাজারে গামছা পরা অবস্থায় সমু চৌধুরীর একটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তিনি জানান, ওরস উপলক্ষে সেখানে গিয়েছিলেন। কাপড় শুকানোর সময় গামছা পরে গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়ার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল বলে জানান তিনি।
পরে তার স্বজন ও অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্যরা সেখানে যান। পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর তিনি যশোরে মায়ের কাছে ফিরে যান।
বাড়ির সামনে হামলার শিকার
চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর যশোর শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা সড়কের নতুন বাজার এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে হামলার শিকার হন সমু চৌধুরী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
একসময় টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করেছিলেন এই অভিনেতা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন ঘটনা আলোচনায় উঠে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জীবনযাপনের কিছু দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর কেউ কটূক্তি করছেন, আবার কেউ তার পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করছেন। অভিনয়জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা ও প্রতিকূলতা মিলিয়ে সমু চৌধুরীর জীবন এখন নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।