ভারত সঠিক পথে না এলে সরাসরি জবাব দেবে পাকিস্তান: শেহবাজ শরিফ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:০০ পিএম
পাকিস্তানের পানির প্রতিটি ফোঁটাকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা হিসেবে উল্লেখ করে ভারতকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেছেন, ভারত সঠিক পথে ফিরে না এলে পাকিস্তান সরাসরি জবাব দেবে।
বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজধানী ইসলামাবাদে নির্মিত ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির যৌথভাবে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে শেহবাজ শরিফ বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। ‘মারকা-ই-হক’ নামের সামরিক অভিযানে সাফল্যের জন্য ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও তার দলকে অভিনন্দন জানান তিনি। মাত্র আট মাসে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে শেহবাজ বলেন, পাকিস্তান এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তবে তাদের শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে কোনোভাবেই দুর্বলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের সাফল্যে পুরো জাতির মাথা উঁচু হয়েছে এবং প্রতিপক্ষকে লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিশ্বকে নতুন সংঘাত থেকে রক্ষা করতে তার দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন শেহবাজ। ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রতীক হিসেবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত না হয়, সে বিষয়ে কাবুল প্রশাসনকেও সতর্ক করেন শেহবাজ শরিফ।
কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পাকিস্তানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে পাকিস্তানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান। একই সঙ্গে কাশ্মীরিদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে শেহবাজ বলেন, ঐক্যবদ্ধ জাতিকে কোনো পরাশক্তি পরাজিত করতে পারে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন শত্রুতায় পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, সিনেট চেয়ারম্যান ও জাতীয় পরিষদের স্পিকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিভিন্ন প্রদেশের পুলিশ এবং আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে বিজয়ের স্মারক হিসেবে ‘ইয়াদগার-ই-ফাতাহ’ নির্মাণ করা হয়েছে। দেশটির সরকারি ভাষ্যমতে, জম্মু ও কাশ্মীরে একটি হামলার জেরে ওই বছরের ৬ ও ৭ মে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানে হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তান পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
৮০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ওই সংঘাত ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয় বলে পাকিস্তানের দাবি। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে ফ্রান্সের তৈরি রাফালসহ ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান এবং বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল। তবে সংঘাতের প্রকৃতি ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান নিয়ে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের দাবির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।