নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
নেপালের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পাহাড়ি জেলা রাসুয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যার পর দুর্গম এলাকাজুড়ে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান। কাদা-পাথরের স্তূপ সরিয়ে এবং আশপাশের নদী এলাকা থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশের নদী এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৫৪৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৭৩ জন।
এর আগে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ৫৩৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাসুয়া ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম ওই এলাকায় পুলিশের ৪ হাজার ৪৭৩ সদস্য উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে নেপাল সেনাবাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে নিখোঁজদের দীর্ঘ তালিকা উদ্ধারকর্মীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এখনো ৯৭৭ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হঠাৎ করেই রাসুয়া জেলার দিকে প্রচণ্ড শক্তিতে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে। পাহাড়ের ওপর জমে থাকা হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এই ঢলে মুহূর্তের মধ্যে রাসুয়ার ত্রিশূলি, নারায়নি ও ভোটেকোশি নদীর পানি বেড়ে যায়। পানির সঙ্গে কর্দমাক্ত মাটি ও বিশাল পাথরখণ্ড নেমে এসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
প্রচণ্ড স্রোতে ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক এলাকা কাদা ও পাথরের স্তূপে পরিণত হয়েছে।
এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে সীমান্তঘেঁষা চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতেও। তিব্বতের সীমান্ত এলাকায় প্রবল বন্যায় অন্তত ৩০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। চীন শুরুতে সেখানে ৩ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে নতুন করে হতাহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
চীনা সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অবশ্য স্বীকার করা হয়েছে, অস্বাভাবিক এই পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।