পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব, শুভেন্দুর হুঙ্কার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) যাদবপুরে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ সমবেত হয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গান পরিবেশন করেন। এ সময় তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি, তথাকথিত ‘আজাদি’ স্লোগান এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বক্তব্য দেন।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, যাদবপুরে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ চলছে। রাষ্ট্রবাদী পরিবারের শিক্ষার্থীদের জোর করে আবাসিক ভবন থেকে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, তারা কীসের স্বাধীনতা চায়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ এবং মাস্টারদা সূর্যসেনসহ অসংখ্য বিপ্লবীর আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
যাদবপুরের আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, তারা কীসের স্বাধীনতা চান। মাদক গ্রহণের স্বাধীনতা চান কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন।
পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, যাদবপুরের বাঁশদ্রোণীর বিটন অধিকারী ও বেহালার সমীর গুহকে ধর্ম ও পোশাক দেখে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের মৃত্যুর প্রতিবাদে যাদবপুরে কোনো মিছিল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। একইভাবে অবন্তীপুরায় জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর পরও সেখানে শোকপ্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, এর পরিবর্তে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিরুদ্ধে যাদবপুরে মিছিল হয়েছে এবং যুদ্ধবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝে আর কিছু হবে না।’
সভা থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েও কঠোর বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতীয় বায়ুসেনা কঠোর পদক্ষেপ করেছে। এরপরই তিনি বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’
যাদবপুরের সভায় জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তার বক্তব্যের যোগসূত্র তৈরি করেন শুভেন্দু অধিকারী। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যাদবপুরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।