তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য নেই: জয়সওয়াল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে জানানোর মতো নতুন কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে আর মাত্র চার দিন বাকি। সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ঢাকা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের জন্য আরও কূটনৈতিকভাবে অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন।
তারেক রহমানের সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে আপনাদের জানানোর মতো নতুন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়াদিল্লিতে তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষার্থী ও জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ঢাকার পক্ষ থেকে একাধিকবার নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করা হলেও ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ঢাকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, বৈঠকটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।
তিনি বলেন, আমাদের হাইকমিশনার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আগামী দিনে এই বিশেষ সম্পর্ককে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জয়সওয়াল আরও বলেন, নির্ধারিত ওই বৈঠকে সৌজন্য বিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কয়েকটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুই বছর স্থগিত থাকার পর আগামী অক্টোবর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আবার আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই।