বাংলাদেশে ভ্রমণ ও অবস্থান না করতে ইসরায়েলিদের সতর্কতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম
বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের হামলার আশঙ্কা বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত হালনাগাদ নিরাপত্তা মূল্যায়নে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো বিদেশে ইসরায়েলি ও ইহুদিদের জন্য বড় ধরনের সন্ত্রাসী হুমকি হিসেবে রয়েছে। বিশেষ করে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিশরের সিনাই উপদ্বীপকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভ্রমণ সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে। এসব অঞ্চলে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ এমনকি যাত্রাবিরতির ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে এসব দেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিমানবন্দর টার্মিনাল না ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও সোমালিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও আলজেরিয়াকে উচ্চঝুঁকির দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
তবে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কাউন্সিল জানিয়েছে, সর্বশেষ বার্তাটি মূলত বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রবণতা এবং বিদেশে ইসরায়েলিদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এটিকে সব দেশের জন্য নতুন করে ভ্রমণ সতর্কতা জারির ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সামনে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার তৃতীয় বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলি নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকাশ্যে ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় প্রকাশ করে এমন প্রতীক ব্যবহার না করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাৎক্ষণিক অবস্থান প্রকাশ না করা, বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা এবং উপাসনালয়, ইহুদি সম্প্রদায় কেন্দ্র ও অন্যান্য ইহুদি সমাবেশস্থলের আশপাশে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াতও নেই। ফলে এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঘটনার ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি। বরং বিদেশে ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ইসরায়েলের সামগ্রিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট