স্ত্রীকে কখনও মেয়ে, কখনও ভাতিজি সাজিয়ে বিয়ে দিতেন স্বামী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্ত্রীকে কখনও নিজের মেয়ে আবার কখনও ভাতিজি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিয়ের কয়েক দিন পরই নতুন স্বামীর বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যেতেন ওই নারী। দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে প্রতারণার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দেগঙ্গার এক বাসিন্দা বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। এক ঘটকের মাধ্যমে এক তরুণীর সন্ধান পান তিনি। ছবি দেখে পছন্দ হওয়ার পর গত মাসে স্থানীয় একটি মন্দিরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় এক ব্যক্তি ওই তরুণীকে নিজের ভাতিজি পরিচয় দিয়ে আশীর্বাদ করেন এবং কন্যা সম্প্রদান করেন। পরিবারের আর কেউ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বিয়ের কয়েক দিন পরই নববিবাহিত যুবকের সন্দেহ হয়। এরপর নিজ উদ্যোগে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী আগে থেকেই বিবাহিত। আর যে ব্যক্তি তাঁকে ভাতিজি পরিচয় দিয়ে কন্যা সম্প্রদান করেছিলেন, তিনিই ওই নারীর স্বামী।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, ওই দম্পতির দুটি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েও রয়েছে এবং তাদের দুজনেরই বিয়ে হয়ে গেছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে পাঠান। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে ভুক্তভোগী যুবক দেগঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বামী স্বীকার করেন, এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রীকে কখনও ভাতিজি আবার কখনও নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়ে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রতিবার বিয়ের পর মোটা অঙ্কের টাকা ও গয়না নিয়ে তারা পালিয়ে যেতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, সামাজিক লোকলজ্জার কারণে আগের অনেক ভুক্তভোগী পরিবার আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত দম্পতিকে বারাসত মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে।