কাজীদের ক্ষমতা শেষ, এবার সরকারি রেজিস্ট্রারের হাতে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির দায়িত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিম বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এর ফলে এতদিন কাজীদের মাধ্যমে বিয়ে নথিভুক্তির যে ব্যবস্থা ছিল, তা আর থাকছে না।

বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়। নতুন বিধিমালার আওতায় মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়া সরকারি ব্যবস্থার অধীনে চলে আসবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য একটি অভিন্ন সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারি রেজিস্ট্রাররা এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিয়ে নথিভুক্তির আবেদন বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আসাম সরকার ২০২৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করেছিল। ওই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষমতা বাতিল করা হয়। তবে তখন নথিভুক্তির দায়িত্ব কার হাতে থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিধিমালা নির্ধারণ করা হয়নি।

২০২৬ সালের নতুন বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হলো। সরকারের দাবি, এর ফলে মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে বিয়ের বয়স যাচাই ও পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের নজরদারিও সহজ হবে।

২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে কনের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বরের বয়স অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বর ও কনের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে।

আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে ওই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল।

২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা বাতিলের পর সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে বিয়ে নথিভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে একটি প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। নতুন বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে এবার সেই বিষয়টি স্পষ্ট করা হলো।

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে মুসলিম দম্পতিদের বিয়ে নথিভুক্তির জন্য সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত নথি ও বয়সের শর্ত পূরণ করার পর বিয়ে সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াই সরকারি প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে যাবে এবং কাজীদের মাধ্যমে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকবে না।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970