প্রেমিকার বাবা-মা ও বোনকে হত্যা, এআইয়ের মাধ্যমে যেভাবে ফাঁসলেন প্রেমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বেঙ্গালুরুতে প্রেমিকার বাবা, মা ও বোনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের আগে ২৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী জে কেনেথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথন ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা ও আত্মরক্ষার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাসে বেঙ্গালুরুর কেআর পুরা এলাকার সিগেহাল্লিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রেমিকা ও একসঙ্গে বসবাস করা সঙ্গী শ্বেতার পরিবারের সদস্যদের হত্যার আগে কেনেথ নিজের বহনযোগ্য কম্পিউটারে বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন।

পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে হামলার পদ্ধতি, ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করে কাউকে অক্ষম করে দেওয়ার উপায়, একাধিক ব্যক্তিকে কাবু করার কৌশল এবং বাড়িতে ঢুকে পড়া চোরদের মোকাবিলার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছিলেন তিনি।

এ ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র, ঋণসংক্রান্ত জটিলতা, ব্যাংকের চাপ সামলানোর উপায় এবং দেউলিয়া ঘোষণার নিয়ম সম্পর্কেও অনুসন্ধান চালানোর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এসব অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, গত ২২ জুন শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী ও বোন সুপ্রিয়াকে হত্যার আগে এসব বিষয়ে তথ্য খোঁজা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কেনেথ নিয়মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথন ব্যবস্থার সঙ্গে কথা বলতেন। সেটিকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করতেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিনি কী ধরনের উত্তর পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া মেশানো একটি বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার সৈদুলু আদাভাত জানান, বোতলটি পরীক্ষার জন্য অপরাধ তদন্তবিষয়ক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে জমা দেওয়া ২ হাজার ৮৫ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থনৈতিক বিরোধ ও ঋণের চাপকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত এক বছরে শ্বেতা কেনেথের জন্য প্রায় ৫২ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ব্যবসায়িক ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করা অর্থও ছিল। ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের নোটিশ শ্বেতার পরিবারের কাছে পৌঁছায়। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরে শ্বেতার বাবা সোমসুন্দর ঋণের অর্থ ও ব্যাংকের নোটিশ নিয়ে কেনেথকে প্রশ্ন করলে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন রাতে সিগেহাল্লির সাই গ্রিন আবাসিক ভবনে ওই বিরোধ সহিংস রূপ নেয়। সেখানে সোমসুন্দর, মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত সোমসুন্দর নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হামলাকারীর নাম জানান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ছুরিকাঘাতে নিহত হন মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়াও।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, শ্বেতা আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তার বাবা, মা ও বোনের ওপর কেনেথকে হামলা করতে দেখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছেন, অনলাইনে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে কোনো বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করলেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না। হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তের ভূমিকা ও দায় নির্ধারণে আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং অপরাধ তদন্তবিষয়ক পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970