জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না মোজতবা খামেনিকে, যা জানালেন ইরানি কূটনীতিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি জনসমক্ষে আসছেন না বলে দাবি করেছেন এই কূটনীতিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।
আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি বলেন, গত কয়েক দিনে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টানা সাত ঘণ্টা বৈঠক করেছেন মোজতবা খামেনি। এ ছাড়া সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, এমন কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকেও তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
ইলাহির ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি ভালো আছেন এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইরানের প্রেসিডেন্টও তার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারও সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইলাহি বলেন, মোজতবার সঙ্গে দেখা করেছেন এমন কয়েকজন বন্ধু তাকে জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রায় আট মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ওই হামলার মধ্য দিয়েই ইরানে যুদ্ধের সূচনা হয়। হামলার প্রথম দিনেই নিহত হন তার বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
এরপর মোজতবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও তাকে প্রকাশ্যে দেখা না যাওয়ায় তার অবস্থা এবং সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। আলি খামেনির মৃত্যুর কিছুদিন পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পান মোজতবা। এরপর থেকে তিনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে বক্তব্য দিলেও জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।
তবে বাবার শেষকৃত্যে মোজতবা উপস্থিত ছিলেন না, এমন ধারণা নাকচ করেছেন আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি। তার দাবি, নিরাপত্তার কারণে মোজতবা সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি। তবে তিনি বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন।
ইলাহি জানান, ওই সময় তিনি ইরানে ছিলেন এবং মোজতবার দুই ভাইয়ের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। মোজতবা খামেনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া ইলাহির দাবি, কোনো কোনো রাতে মোজতবা রাস্তায় বের হন এবং ইরানে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছেন।
ইরানে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় মোজতবার শারীরিক অবস্থা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ইরানের আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতির ওপর, যা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানি কর্মকর্তা ও দেশটির কয়েকটি জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, নিরাপত্তার কারণে আড়ালে থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন মোজতবা। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলায় তার শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং চেহারায় দৃশ্যমান ক্ষত তৈরি হয়। সুস্থ হয়ে ওঠার পাশাপাশি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের বড় অংশ তিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, মোজতবা নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবেদন পান এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যুদ্ধ শুরুর আগেও তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পর্দার আড়ালে কাজ করতে পছন্দ করতেন এবং জনসমক্ষে উপস্থিতি এড়িয়ে চলতেন।
গত ২১ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্রমেই বাড়ছে। তবে আগস্টের শুরুতে তিনি আবার জানান, মোজতবার সঙ্গে যোগাযোগ করা বেশ কঠিন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সামরিক পরিস্থিতি ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংগ্রহ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, জ্বালানির ব্যবহার এবং বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এর আগে মে মাসেও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মোজতবা খামেনির সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রথম খবর ছিল সেটি।
সূত্র, এনডিটিভি