বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের দিকে নজর রাখছে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে বাংলাদেশের পরিস্থিতির অবনতি হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে ভারত। সেখানে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে এবং সেগুলোর ওপর পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক, ভবিষ্যৎমুখী ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে যেতে চায় নয়াদিল্লি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও সহিংসতার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের কারণে ঢাকা, গাজীপুর ও মধ্য ময়মনসিংহের প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত পোশাক কারখানার মধ্যে ৬৭০টি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর বিষয়ে আলোচনা করার জন্য এটিই নির্ধারিত কাঠামো।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ আগেই জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে তা জানানো হবে।
এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ইতিবাচক এবং গঠনমূলক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন জয়সওয়াল।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট