২০২৭ সালের বাংলা সাহিত্য বইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার লেখা একটি ঐতিহাসিক ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড জানিয়েছে, নিবন্ধটি নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের নতুন পাঠ হিসেবে স্থান পাবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলা সাহিত্য বইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পক্ষের অবদান পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরার অংশ হিসেবেই এই সংযোজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ের ২২ নম্বর গদ্য হিসেবে নিবন্ধটি স্থান পেতে যাচ্ছে। এতে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধের সূচনা, পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং স্বাধীনতার ঘোষণা ঘিরে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ রয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটির আগে দেওয়া ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে দৈনিক দেশে প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’কে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব হিসেবে না দেখার কথাও বলা হয়েছে।
নিবন্ধের লেখক পরিচিতিতে জিয়াউর রহমানকে সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং বীর উত্তম হিসেবে উল্লেখ করার কথা জানিয়েছে এনসিটিবির সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক জনযুদ্ধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নিবন্ধে ২৫ ও ২৬ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ের পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরুর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলার স্মৃতিচারণ রয়েছে। এতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ সংগঠিত করা, পটিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়া এবং সম্মুখসমরের বর্ণনাও রয়েছে।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ঘটনাপ্রবাহও নিবন্ধটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের স্মৃতিচারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ রয়েছে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যাঁদের যে ধরনের অবদান রয়েছে, তা পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরার লক্ষ্যেই নিবন্ধটি যুক্ত করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন এই পাঠ যুক্ত হলে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহ এবং জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণভিত্তিক একটি পৃথক নিবন্ধ পাঠের সুযোগ পাবে।
সূত্র: বাসস