প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসে না যাওয়ায় বিদ্যুৎ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছিল আদানি: রিজভী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
ভারত শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলা হলেও এভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। ১৪শ হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারত তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করছে না। তার দাবি, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করার পেছনে ভারতের গভীর কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ভারত আরও অনেক ঘাতককে আশ্রয় দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন না এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরদিনই আদানির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। রিজভীর দাবি, এটিও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তার সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার বারবার শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের দাবি জানালেও ভারত সে দাবি মানছে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিচার চলছে, তাদের কেন হস্তান্তর করা হচ্ছে না, সেটিই এখন মানুষের বড় প্রশ্ন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলা হলেও দেশের মানুষ চায় পারস্পরিক সমতা ও বাংলাদেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে সম্পর্ক গড়ে উঠুক।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি দাবি করেন, নানা সংকটের মধ্যেও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বেড়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার কারণে অর্থনীতির কয়েকটি সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, নাগরিক স্বাধীনতা, কথা বলার অধিকার, কণ্ঠের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই বিএনপির অঙ্গীকার।
তার দাবি, বর্তমান সরকার সেই অঙ্গীকার সামনে রেখেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। সংসদে বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের সমালোচনা করছেন এবং কঠোর বক্তব্যও দিচ্ছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে আগের সরকারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে না বলেও দাবি করেন তিনি।