আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনকারী বাংলাদেশের চার হাফেজকে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কোনো অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজরা যে পুরস্কার অর্জন করেছেন, তা শুধু তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটি বাংলাদেশের সব মুসলমানের জন্যও গৌরবের বিষয়।
হাফেজদের উৎসাহ ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সন্তানরা দেশের ভবিষ্যৎ। তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
মেধাবীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। এর মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষও উপকৃত হবে।
সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষকেরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকেরা যেসব সমস্যার কথা জানিয়েছেন, সেগুলোর সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, তা করার চেষ্টা করা হবে।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হাফেজদের অংশগ্রহণে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি জানাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করুক এবং নিজেদের, দেশের ও দেশের মানুষের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক, সরকার সেটিই চায়।
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে, তবে লক্ষ্য একই। দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সবাই ভালো ও শান্তিতে থাকতে পারে এবং মানুষ মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে।
দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চায় সরকার।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন। এর আগে প্রতিযোগিতায় যেসব সূরা তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেসব সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা বিভাগে এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুন ও মাওলানা রফিকুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।