উনি তারেক জিয়া না, উনি ‘আরেক জিয়া: বরগুনায় চিফ হুইপ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘আরেক জিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা ২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। তিনি বলেছেন, তারেক রহমান তৃণমূলের মানুষের দুঃখ কষ্ট বোঝেন এবং তাদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করছেন। তাকে তারেক জিয়া না বলে ‘আরেক জিয়া’ বলাই যথার্থ হবে।
শনিবার ১৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় বরগুনা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে দেশ গঠনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তারেক রহমান। তার দাবি, শেখ হাসিনার রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকা। অন্যদিকে তারেক রহমান মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসকে গুরুত্ব দেন। নির্যাতন ও অবিচারের মুখেও প্রতিশোধের রাজনীতি এড়িয়ে দেশ গঠনে মনোযোগী থাকার আদর্শে বিশ্বাস করেন তিনি।
তারেক রহমানের কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, তিনি একজন কর্মঠ ও মানবদরদি নেতা। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে দেশের দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ ৫০ লাখ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া শিশুদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা, বিনা মূল্যে বই বিতরণ এবং ইংরেজি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান নূরুল ইসলাম মণি। নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে স্নাতকোত্তর বা এমএ পর্যন্ত মেয়েদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে চিফ হুইপ বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান তিন বছরের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। তার হাত ধরে খাল খনন কর্মসূচি, তৈরি পোশাকশিল্পের সূচনা এবং হাঁস মুরগি পালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিবর্তন এসেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গোৎসব ও ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের অধিকার সমান। এ দেশে নাগরিকদের মধ্যে সংখ্যালঘু পরিচয়ে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিফ হুইপ জানান, এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আবেদনের চেয়েও বেশি অনুদান হিসেবে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গোৎসব উদযাপনে সরকারি ছুটি বাড়িয়ে ৫ দিন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।