ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সরকারি কর্মকর্তার কাছে নারী, অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
নোয়াখালীর কবিরহাটে এক নারীর সঙ্গে মফিজুর রহমান নামে এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ওই নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে নিশ্চিত করেন মফিজুর রহমান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ওই নারীকে তিনি বাধ্য করেননি। বরং ওই নারীই তাকে ফাঁদে ফেলেছেন।
মফিজুর রহমান কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট, বাটইয়া ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভা এলাকার সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে এক নারীর সঙ্গে মফিজুর রহমানকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে মফিজুর রহমান ওই সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া অন্য এক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মফিজুর রহমান তিন হাজার টাকা ঘুস চেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ওই নারী মুঠোফোনে টাকা পাঠাতে চাইলে তাকে নগদে টাকা দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে মফিজুর রহমান বলেন, ওই নারী তার পূর্বপরিচিত। একদিন ওই নারী তাকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাইয়েছেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। টাকা চাওয়ার অডিওর বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আগেই জেনেছে এবং এ বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি দুই মাস আগে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান জানান, বিষয়টি জানার পর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখার মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।