নারায়ণগঞ্জের পার্কে দুই যুবকের ‘অস্ত্রের মহড়া’, বিপাকে ম্যানেজার
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি পার্কে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মতো দেখতে বন্দুক হাতে দুই তরুণের ঘোরাফেরার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ৩৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে পথচারী, রিকশাচালক এমনকি শিশুর দিকেও বন্দুক তাক করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট ‘ওয়াফি লিমন’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণকে দেখা যায়। তাদের হাতে থাকা দুটি বন্দুক দেখতে অনেকটা আসল অস্ত্রের মতো। পার্কের ভেতর, ব্যস্ত সড়ক ও দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তারা বিভিন্ন মানুষের দিকে হঠাৎ বন্দুক তাক করছেন। এতে কাউকে সরে যেতে, কাউকে থমকে দাঁড়াতে এবং কাউকে আতঙ্কিত হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে থাকা দুই তরুণের একজন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা। অপরজনের নাম মো. ইয়াসিন। লিমনের দাবি, ভিডিওতে ব্যবহৃত দুটি বন্দুকই খেলনা। মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করতেই পরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
লিমন তোহা বলেন, এটি মূলত একটি মজার ভিডিও হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। বন্দুক দেখে মানুষের ভয় পাওয়ার দৃশ্য ধারণ করা হলেও পরে তারা বিষয়টি বুঝে মজা করেছেন—সেই অংশ ভিডিওতে প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে ভিডিওটি নেতিবাচকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি তার।
তিনি জানান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটকের দৃশ্য এবং টিকটকের বিভিন্ন ট্রেন্ড দেখে এমন ভিডিও তৈরিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। পরে ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও এটি প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই তার বলে জানান তিনি।
প্রকাশ্যে অস্ত্রের মতো দেখতে বন্দুক হাতে ঘুরে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো অপরাধ কি না জানতে চাইলে লিমন বলেন, বিষয়টি অপরাধ কি না তিনি জানেন না। অন্য দেশেও এ ধরনের ভিডিও তৈরি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার আওতাধীন এলাকায় ঘটলেও ভিডিওতে থাকা দুই তরুণের বাড়ি বন্দর থানা এলাকায়।
শুক্রবার বিকেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, এমন কোনো ভিডিও এখন পর্যন্ত পুলিশের নজরে পড়েনি। তবে কেউ অস্ত্র প্রদর্শন করে থাকলে প্রথমে অস্ত্রগুলো বৈধ বা লাইসেন্সকৃত কি না, তা যাচাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্রগুলো লাইসেন্সকৃত বা বৈধ না হলে কিংবা খেলনা হলেও ভিডিও দেখে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। যে পার্কে অস্ত্রের মতো দেখতে বন্দুক নিয়ে ভিডিওটি করা হয়েছে, সেই পার্কের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ম্যানেজারের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে দুই তরুণকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
খেলনা বন্দুক দিয়ে ‘ফানি ভিডিও’ তৈরির দাবি করা হলেও প্রকাশ্য স্থানে শিশু ও সাধারণ মানুষের দিকে অস্ত্রের মতো দেখতে বন্দুক তাক করে ভয় দেখানোর ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। বিনোদনের নামে এভাবে আতঙ্ক তৈরি করে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।