পটুয়াখালীতে ইউএনও-পুলিশের উপস্থিতিতে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বাউফল-লেবুখালী আঞ্চলিক সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল থেকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকে পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জানা গেছে, নতুন কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। পরে ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে আনন্দ মিছিল উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুমকি উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে জাকির আলম মিলনকে সভাপতি এবং জাহিদুল ইসলাম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটিতে আরও চারজনকে বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।

তবে নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। সদ্য সাবেক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করেন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকা একটি উপজেলায় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুজন ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে রাজনীতি করা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে আনা হলে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন কোথায় হবে?

সদ্য সাবেক উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন হাওলাদারও নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, সভাপতি পদ পাওয়া জাকির আলম মিলন ব্যবসার কারণে বছরের প্রায় পুরো সময় ঢাকায় অবস্থান করেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের নবঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, তার বাবা ইউনুচ আলী হাওলাদার ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দুমকি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনিও ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে বিএনপির সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তৃণমূলে রাজনীতি করেছেন। পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নবঘোষিত কমিটির সভাপতি জাকির আলম মিলন বলেন, ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করতে পারবেন না—দলে এমন কোনো নিয়ম নেই। তিনি সদ্য সাবেক কমিটির ৫ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। যারা এখন কমিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করছেন, তাদের সঙ্গেই তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে ছিলেন বলেও দাবি করেন।

এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970