আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে দম্পতি ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামীর গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পাওয়ায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে অর্ধগলিত তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন আলমগীর ও তার স্ত্রী নাজমা (৩৩)। তাদের দুজনের বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুরা গ্রামে। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আর আলমগীর পান বিক্রি করতেন।
স্থানীয়রা জানান, আলমগীর ও নাজমা কিছুদিন আগে ওই বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তারা সাধারণত ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতেন। শুক্রবার রাতে ওই কক্ষ থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতর থেকে স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সুরতহাল করার সময় আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচানো দেখতে পায় পুলিশ। এতে ঘটনাটি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়।
পরে পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগের আলামত সংগ্রহকারী দল, ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বন্ধ ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।