প্রশাসনের চরম গাফিলতি

কৃত্রিম সার সংকটের মূল হোতা বিএনপি নেতা!

সুজন মাহমুদ, বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি। ছবি: মনোযোগপ্রকাশ

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সার ডিলার শফিউর রহমান শফির বিরুদ্ধে। সরকারি বরাদ্দ গোপন রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও চড়া দামে সার বিক্রির এই অপতৎপরতায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সারের আশায় রাত ৩টা থেকে বিভিন্ন ডিলারের দোকান ও গুদামের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শত শত কৃষক। সকালে অন্যান্য ডিলাররা সার বিতরণ প্রায় শেষ করলেও শফিউর রহমান তার গুদামে তালা ঝুলিয়ে রাখেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা গুদামের তালা ভেঙে সার নেওয়ার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে গুদাম থেকে সার বাইরে পাচার হওয়ার আগেই তা উদ্ধার করা হয়।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষক মফিজুল হক ও আব্দুল হাকিম বলেন, "রাত ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সারের মুখ দেখিনি। রাজীবপুর বাজারের অন্য সব ডিলারের চেয়ে শফির গুদামেই সবচেয়ে বেশি সারের মজুদ রয়েছে। অথচ তিনি সার আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন, যাতে চড়া দামে বিক্রি করা যায়। বাজারে এরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে, আর বলির পাঁঠা হচ্ছি আমরা সাধারণ কৃষকরা।"

উপজেলা কৃষক অফিসার তৌফিক আল জুবায়েরের তথ্য মতে, শফিউর রহমানের গুদামে ৫০০ বস্তা সার মজুত ছিলো। তিনি সেগুলো সকালে বিতরণ করার জন্য কৃষকদের মাঝে স্লিপ দিচ্ছেন। এই প্রক্রিয়াটি লেন্দি হওয়ায় কৃষকরা ক্ষুদ্ধ হয়। পরে আমরা দাঁড়িয়ে থেকে সার গুলো কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছি।

কৃষকদের অভিযোগ, আব্দুল হাই নামের আরেক ডিলার এক হাজার ৩৫০ টাকার সার বিক্রি করছেন এক হাজার ৭৩০ টাকায়। একটি ভিডিওতে কৃষকদের অভিযোগের কথা স্বীকারও করেছেন ওই ডিলার। তিনি বলেন, আমি এবং আসাদ সরকারি বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত দাম দিয়ে চট্রগ্রাম থেকে সার গুলো কিনে এনেছি, এজন্য দান বেশি। কিন্তু সরকারের দেওয়া বরাদ্দের সার দাম এক হাজার ৩৫০ টাকা করেই নেওয়া হচ্ছে।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষক অফিসার তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, আমরা তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন সার গুলো তারা চট্রগ্রাম থেকে আমদানি করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, চট্রগ্রামের সার গুলো চড়া দামে বিক্রি করছিলেন আর সরকারি বরাদ্দের সার গুমেই ছিলো। অর্থাৎ এই কথাতেই তার কর্ম গাফলতি বা দায়িত্বহীনতা স্পষ্ট হয়ে যায়।

সরকারি বরাদ্দের সার গুমে রেখে আমদানিকৃত সার চড়া দামে বিক্রি আইন বহির্ভূত কিনা জানতে চাইলে বিব্রত হয়ে তিনি আরও বলেন, না, হ্যা। অবশ্যই আইন বহির্ভূত। তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নাপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ডিলার শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েন ডিসি দেবনাথ।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970