গরু চুরির অভিযোগ, বিএনপির এক নেতাকে বহিস্কার আরেক নেতাকে শোকজ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে চুরি হওয়া একটি গরু বিএনপির এক নেতার গোয়ালঘর থেকে উদ্ধারের ঘটনায় দলটির দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক তাজুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা এলাকা থেকে এক দিনমজুরের একটি গরু চুরি হয়। পরে গরুটির মালিকের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীর গোয়ালঘরে চুরি যাওয়া গরুটির সন্ধান পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার বাড়ির সামনে লোকজন জড়ো হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং গরুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
তবে চুরি হওয়া গরুটি কীভাবে দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে গেল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গরু চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন। তার দাবি, তাজুল ইসলাম তিন দিন আগে ভোরে গরুটি তার গোয়ালঘরে বেঁধে রেখে যান। তাকে ফাঁসাতেই এমনটি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেলোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপি। নোটিশে তাকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাজুল ইসলামের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক পদ বাতিল করে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম মজুমদার বলেন, গরুটি কীভাবে দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে এসেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়। দলের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গরুটি কীভাবে ওই গোয়ালঘরে গেল এবং এর সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তদন্তের পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।