শেখ হাসিনার জন্য দোয়া চেয়ে শাহজালাল মাজারের ডেগে আ. লীগ নেতার চিঠি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের মানতের ডেগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে তার সুস্থতা কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের আশার আলো হয়ে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) মাজারের দানবাক্স ও মানতের ডেগের টাকা গণনার সময় চিঠিটি পাওয়া যায়। এদিন পঞ্চম দফায় প্রকাশ্যে দানবাক্স ও মানতের ডেগের টাকা গণনা শুরু হয়।
চিঠিতে লালবাগ থানা ২৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মো. মামুন হোসেন মন্না নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে তার জন্য দোয়া ও প্রার্থনার কথা লেখা রয়েছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমি লালবাগ থানা ২৪ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মো. মামুন হোসেন মন্না। বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে হযরত শাহজালাল মাজারে নেত্রীর জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করছি। আল্লাহ পাক যেন তাকে সর্বদা সুস্থ রাখেন এবং বাংলাদেশের মানুষের আশার আলো হয়ে যেন ফিরে আসেন, আমিন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় হোক দেশরত্ন শেখ হাসিনার।’
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খোলার পর পাওয়া অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব ঘোষণা করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।
গণনার হিসাব অনুযায়ী, মাজারে পাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা এবং রুপার পরিমাণ ৩ ভরি ১৩ আনা। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ১৪ পাউন্ড, ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২০ থাই বাথ, ৯৩ সৌদি রিয়াল, ১১ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২৯ মার্কিন ডলার, ১ হাজার ৩৫০ দশমিক ৫০ ওমানি বাইসা, ৬৫ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ১৫ মালদ্বীপের রুপি, ১৭ কাতারি রিয়াল, ৭ ইউরো ৩৩ সেন্ট, ১০০ বাহরাইনি পয়সা, ১০ হংকং ডলার, ১ ব্রুনাই ডলার, ৫৫ নেপালি রুপি, ১০০ পাকিস্তানি রুপি, ৫০ রুশ রুবল এবং ৫০০ শ্রীলঙ্কান রুপি।
প্রসঙ্গত, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় আয়ের অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাজারের মোট আয়ের ৩৫ শতাংশ উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ অন্যান্য খরচ মেটাতে ব্যবহার করা হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
এর আগে গত ২২ জুন, ১১ জুলাই, ১৫ আগস্ট ও ১৯ সেপ্টেম্বর মাজারের দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে টাকা গণনা করা হয়েছিল। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়।