ভারত ভ্রমণে গিয়ে মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী নিয়ে ফিরলেন নারী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
বাংলাদেশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ব্রিটিশ নারীর অবিশ্বাস্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা। ভারত ভ্রমণের কয়েক বছর পর তার মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবীর উপস্থিতি ধরা পড়ে, যার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে তীব্র শারীরিক ও মানসিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।
৪২ বছর বয়সী লোরি ডেনম্যান জানান, ২০১০ সালে একটি রেস্তোরাঁর শৌচাগার ব্যবহারের সময় তিনি প্রায় এক মিটার লম্বা একটি ফিতাকৃমি দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে তার তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি এবং মানসিক বিভ্রম দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, লোরি ‘নিউরোসিস্টিসারকোসিস’ নামের একটি বিরল পরজীবীজনিত রোগে আক্রান্ত হন। ধারণা করা হয়, ২০০৭ সালে তিন মাসের ভারত সফরের সময় অসাবধানতাবশত এমন খাবার গ্রহণের মাধ্যমে তার শরীরে শূকরের ফিতাকৃমির ডিম প্রবেশ করে। যদিও খাদ্য বিষক্রিয়া এড়াতে তিনি মাংস খাওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
২০১১ সালে খিঁচুনির পর হাসপাতালে ভর্তি হলে তার ক্যাট স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবীর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের এমন তথ্য শুনে লোরি ও তার পরিবার হতবাক হয়ে যান।
প্রাথমিকভাবে তাকে পরজীবীনাশক ওষুধ ও স্টেরয়েড দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও কয়েক বছর পর আবারও কর্মস্থলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। নতুন পরীক্ষায় দেখা যায়, পরজীবীগুলোর চারপাশে মস্তিষ্কে বড় ধরনের প্রদাহ সৃষ্টি হয়েছে। এরপর তার মধ্যে বিভ্রান্তি, শরীর অবশ হয়ে আসা, উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক এবং সাইকোসিসের মতো জটিলতা দেখা দেয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে প্রায় ছয় সপ্তাহ নিউরোসাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত চাকরিও ছাড়তে বাধ্য হন।
লোরির দীর্ঘদিনের বন্ধু নিকোলা ব্রাউন জানান, হাসপাতালে গিয়ে তিনি লোরিকে শিশুদের মতো আচরণ করতে দেখেন। কখনও তিনি মেঝেতে হামাগুড়ি দিচ্ছিলেন, আবার কখনও পর্দার আড়ালে লুকিয়ে পড়ছিলেন।
চিকিৎসক ড. ব্র্যান্ডন হিলি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে পরজীবীগুলোর ডিম ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে শক্ত বা ক্যালসিফাইড অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে, ২০১৭ সালের পর লোরির আর কোনো খিঁচুনি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়াতে তাকে সারাজীবন মৃগীরোগের ওষুধ সেবন করতে হবে।