হরমুজে আমিরাতের দুই জাহাজে ইরানের হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আবুধাবি। হামলাটিকে ‘জলদস্যুতা’ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আমিরাতের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, হামলায় কোনো ব্যক্তি হতাহত হননি। তবে আমিরাতের অভিযোগের বিষয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে গত শনিবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে সরকারি মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে একই ধরনের হামলার অভিযোগ করা হয়েছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যকর অবরোধ বজায় রেখে এই পথে চলাচলের জন্য অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছে এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের অবরোধ আরোপ করেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছিল, তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিংবা ইরানের নির্দেশনা অমান্যকারী কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহারের ইরানের প্রচেষ্টা ‘জলদস্যুতার’ শামিল। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, ওই অঞ্চলের জনগণ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরাসরি হুমকি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার জাহাজে হামলার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে দায়ী করেছিল।
আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা