ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে হাজারো সমর্থকের লং মার্চ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছেন তার সমর্থকরা। ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোববার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে লং মার্চের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রদেশটিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সরকার রয়েছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে একাধিক স্থানে বিরতি দিয়ে মিছিলটি ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।
সমর্থকদের উদ্দেশে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে তাদের কারারুদ্ধ নেতার মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।
২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দলটির সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বিরোধ তীব্র হয়েছে। ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, তার সরকারের পতনের পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার সমর্থকরা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালান এবং ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেকের বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার ও সাজা দেওয়া হয়।
৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান নিজেকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে দাবি করে আসছেন। বিচারিক আদালতে একাধিক মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে আপিল চলাকালে একটি মামলা ছাড়া তার বাকি সাজাগুলো স্থগিত অথবা বাতিল হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর লং মার্চের তারিখ নির্ধারণ করেছিল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। পরে সরকার আলোচনার প্রস্তাব দিলে দলটি কর্মসূচি পিছিয়ে দেয়। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দুই পক্ষের আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপরই নতুন করে ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছে দলটি।
দুই বছর আগে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের বড় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। এবার সম্ভাব্য অস্থিরতা ঠেকাতে ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও দূতাবাস এলাকা শিপিং কনটেইনার দিয়ে ঘিরে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, কোনোভাবেই বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, তারা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবেন। কোনো রাজনৈতিক দলকে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা বাণিজ্য ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যৌথ নীতিতে সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। তবে দলটি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, সরকার অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিয়ে নতিস্বীকার করানোর চেষ্টা করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, প্রাদেশিক সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবিরোধী নীতি অনুসরণ না করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেই সরকার ভেঙে দেওয়া হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স