মধ্যরাতে বাইকের মাঝে নিথর তরুণী, মুখ খুলে জানালেন কী হয়েছিল
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০২ এএম
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে পুলিশ। এরই মধ্যে ওই তরুণীর সন্ধান পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
ওই তরুণী জানান, তিনি ভালো আছেন এবং বেঁচে আছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে ফোন রেখে দেন। এর আগে তিনি সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে কথা বলতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
এদিকে ওই তরুণীর একাধিক স্বজনের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তার বড় বোনের স্বামী জানান, ‘চুমকি’ ছদ্মনামের ওই তরুণী কখনো মদ্যপান করতেন না। ঘটনার দিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। বিষয়টি দেখে রাগ করে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে ওই দুই তরুণের সঙ্গে মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা তাকে বাসায় পৌঁছে দেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর থেকেই মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবক ও তরুণীর পরিচয় এবং সর্বশেষ অবস্থান জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হয়। মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সেটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। এ ঘটনায় দুটি মোবাইল নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।
এর মধ্যে একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি একটি শোরুম মালিকের বলে জানা গেছে। তবে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার শোরুম থেকে মোটরসাইকেলটি বিক্রি হয়নি। কীভাবে তার মোবাইল নম্বর ওই ঘটনায় এসেছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না। অন্য নম্বরটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর এলাকায় হলেও ঘটনার সময় চালকের আসনে থাকা ব্যক্তির বাড়ি রাজেন্দ্রপুরে। তার নামের শেষাংশে ‘আলম’ রয়েছে।
এদিকে ওই তরুণীর অতীত নিয়েও নানা তথ্য সামনে এসেছে। তিনি এর আগে দুটি বিয়ে করেছিলেন। তার সাবেক এক স্বামীও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে। ওই সময় আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গীর দিকে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ছিলেন। ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটির পেছনে ছিলেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে নিচের দিকে ঝুলছিল।
দৃশ্যটি দেখে মুফতি মনোয়ার হোসেনের সন্দেহ হয়, তরুণীটি জীবিত নাকি মৃত। তার ভাষায়, সচেতন বা জীবিত কোনো মানুষের পা সাধারণত এভাবে ঝুলে থাকার কথা নয়। এরপরই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।