কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হচ্ছেন পুতুল
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার বিষয়টি দলটির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তাদের ভাষ্য, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কাঠামো নিয়ে আলোচনার মধ্যেই দল গোছানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুতুলকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে একজন এবং বরিশাল বিভাগ থেকে আরও একজন নেতাকে এই ফোরামে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিল অথবা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত করতে পারেন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আয়োজনের কথা রয়েছে। তবে ওই সভাতেই পুতুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে এমনটি নিশ্চিত নয়।
দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যনির্বাহী সংসদ যদি শেখ হাসিনাকে মনোনয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়, তাহলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা সরাসরি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সভাটি ভার্চুয়ালি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সব সদস্য ভারতে না থাকায় সরাসরি সভা আয়োজনের পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এরই মধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াও নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় বিবেচনায় নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করতে দলীয় নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, এর পেছনে কৌশলগত বিবেচনাও থাকতে পারে।
এদিকে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার সম্ভাব্য দেশে ফেরা এবং আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি কারাবন্দি হলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়েও দলটির ভেতরে আলোচনা চলছে।
এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন এবং পুতুলকে সক্রিয় রাজনীতিতে আনার আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, পুতুলের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়টি তার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দায়িত্ব ছাড়ার আলোচনার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ