ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়িয়েও লিটারপ্রতি ৭০ টাকা ঘাটতি: রিজভী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের লোকসান পুরোপুরি কাটেনি বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ দেশে দীর্ঘদিন প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। এতে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হচ্ছিল।

সম্প্রতি ডিজেলের দাম ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর পরও আন্তর্জাতিক বাজারের ক্রয়মূল্যের সঙ্গে দেশের বিক্রয়মূল্যের বড় ব্যবধান রয়েছে। ফলে এখনো প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে এর পরও সরকারকে বড় অঙ্কের ঘাটতি বহন করতে হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দামের তুলনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি। এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম তুলনামূলক কম রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

রিজভীর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশে দীর্ঘ সময় প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। পরে ২০ টাকা বাড়িয়ে দাম ১৩৫ টাকা করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য প্রায় ২০৫ টাকা হওয়ায় নতুন দামেও সরকারের প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, একদিকে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে, আবার অন্যদিকে কমবে, এটাই অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ। কোনো দেশে কোনো পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হলে তার অর্থনৈতিক প্রভাব অন্যদিকে প্রবাহিত হয়।

আলোচনায় দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন নাশকতার ঘটনাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, পরিকল্পিতভাবে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে তাদের বিরুদ্ধেও লং মার্চ, প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।

জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলনে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো আন্দোলনে তাদের ভূমিকা দেখা যায় না। রাজনীতিতে নীতি ও নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা সেটিকে গুরুত্ব দেননি।

ইসলামের নামে রাজনীতি করা ব্যক্তিদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ইসলাম নীতি ও নৈতিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণার কারণে তারা চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের জনস্বার্থে বিভিন্ন আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনসহ জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন আন্দোলনের বিরোধিতা করা হয়েছে। এর ফলে জনগণের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান, মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970