জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের রোষানলে পড়ে ডিসকলেজিয়েট হয়েছি: সালাহউদ্দিন আম্মার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেছেন, জামায়াতে ইসলামীপন্থী শিক্ষকদের কারণে তিনি ডিসকলেজিয়েট হয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের রোষানলে পড়ারও দাবি করেছেন তিনি।
সম্প্রতি এনপিবি নিউজের রাজনৈতিক ও সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠান ‘প্রশ্নের মুখোমুখি’তে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আম্মার।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমাকে কিন্তু ডিসকলেজিয়েট করছে জামায়াতের শিক্ষকরা।’
দীর্ঘ সময় পর আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখন এসে আবার ইউনিভার্সিটি কন্টিনিউ করতেছি। মানে আমি আওয়ামী শিক্ষকদের রোষানলে পড়ছি, বিএনপিদেরও রোষানলে পড়ছি এবং জামায়াতে ইসলামের রোষানলে পড়ছি।’
একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে রেখে তাকে ডিসকলেজিয়েট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আম্মার। তিনি বলেন, ‘আমাকে ডিসকলেজিয়েট করা হইছে একটা সিচুয়েশনের মধ্যে রেখে। কারণ আমার ডিপার্টমেন্টের ইতিহাসে কখনো এমন হয় নাই।’
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আম্মারের ‘সাথী’ পদ মুলতবি করার কথা জানায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
গত ৩১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের দেওয়া এক চিঠিতে এসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। একই ধরনের অভিযোগ ছিল গত ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি ও বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতেও। তবে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন সালাহউদ্দিন আম্মার।
এর মধ্যে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া নতুন অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ভিন্ন দাবি করেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আনা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আম্মারের দাবি, অ্যাম্বুলেন্সটি আনার প্রক্রিয়া তিনি শুরু করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সেটিকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। ওই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন তিনি।
এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে গত ৩১ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের দেওয়া চিঠি এবং গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে রাকসুর সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠি সামনে আসে।