সালমানের স্টুডিওতে হামলা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন গ্রেপ্তার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত চতুর্থ আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদী এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তারা হলেন মো. মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুয়া। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। পরে বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদী ইসিবি চত্বরসংলগ্ন নিউ ডিওএইচএস প্রপার্টিজ এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির সাইট প্রকৌশলী মো. পারভেজ ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কক্ষ ও কার্যালয়ে ঢুকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ল্যাপটপ, কম্পিউটার মনিটর, ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ যন্ত্র, টাকার বাক্সে থাকা নগদ অর্থ, রড, কেবলসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।
একই ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ফিশ অব ফিশ’ নামের স্টুডিওতেও হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, স্টুডিওতে থাকা আসবাবপত্র, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এসব ঘটনায় আনুমানিক ৯৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
লুট ও ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে সনি এফএক্স ক্যামেরা, সার্ভার ব্যবস্থা, সম্পাদনার কম্পিউটার, গিটার, মাইক্রোফোন, শব্দ ধারণের যন্ত্র, সনি এ৭এস ক্যামেরা, জি মাস্টার ৩৫ মিলিমিটার লেন্স, জাইস প্রাইম লেন্সসহ বিভিন্ন শুটিং ও প্রযোজনার সরঞ্জাম।
এ ছাড়া ম্যাকবুক, স্যামসাং এসএসডি, পিএস৫ নিয়ন্ত্রক, রেভো ইভি বাইক, বিভিন্ন ধরনের বাতি, সফটবক্স, স্ট্যান্ড, গডক্স লাইট, রিং লাইট, ডিজেআই আরএস৫, ডিজেআই মাইক ২, ট্রাইপড, বায়ু শীতলকারী যন্ত্র ও ডিপ ফ্রিজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট বা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় বাদীর প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামালসহ মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৩৩ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাটের দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের প্রকৃত নাম ও ঠিকানা জানার জন্য গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণে ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক তদন্ত সুব্রত দেবনাথ তাদের পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।