ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির সরকার। দাবানল মোকাবিলায় ৬৪টি বিমান ও প্রায় ৫৪ হাজার কর্মী মোতায়েন করা হলেও দুর্গম পিটভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইন্দোনেশিয়ার পন্টিয়ানাক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়া জানিয়েছেন, গত মাস থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশ ও স্থলপথে সমন্বিতভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। আগুন নেভানোর পাশাপাশি ধোঁয়ার প্রভাব কমানো এবং স্থানীয় জনগণকে দাবানলের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশাল ভূখণ্ড ও পিটভূমির জটিল প্রকৃতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি পশ্চিম কালিমান্তান। সেখানকার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র ড্যানিয়েল সিনিয়র জানান, মাটির গভীরে পিটের বিভিন্ন স্তরে আগুন জ্বলতে থাকায় তা দ্রুত শনাক্ত করে নিভিয়ে ফেলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া দাবানলকবলিত এলাকায় পানির সংকটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের অনেক পানির উৎস শুকিয়ে যাওয়ায় মাটিতে কাজ করা উদ্ধার ও দমকলকর্মীদের পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা কঠিন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দাবানল প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে গত সপ্তাহে পশ্চিম কালিমান্তানের কয়েকটি আদিবাসী ও নাগরিক সমাজের সংগঠন সরকারের বিরুদ্ধে যৌথভাবে মামলা করেছে।

মামলাকারীদের আইনজীবী গ্লোরিও সানেন বলেন, প্রতিবছর একই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। ফলে দাবানল এবং এর কারণে সৃষ্ট ধোঁয়ার বিপর্যয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই অবগত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দাবানল মোকাবিলায় সহায়তা করতে চলতি মাসে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৩৫০ সদস্য পশ্চিম কালিমান্তানে পৌঁছেছেন। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মালয়েশিয়ার সহায়তাও গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ।

ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে বন ও ভূমিতে আগুনের ঘটনা বেড়ে যায়। তবে চলতি বছর আগুনের বিস্তার ও তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের বন উজাড় এবং আগুন ব্যবহার করে জমি পরিষ্কারের মতো কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এসব পরিবর্তনের ফলে অনেক এলাকায় ভূমির স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও আগুন প্রতিরোধের সক্ষমতা কমে গেছে।

ইন্দোনেশিয়া সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে ২ লাখ ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে।

তবে নুসান্তারা অ্যাটলাস প্রকল্পের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ আরও বেশি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ হেক্টর এলাকা পুড়েছে। আগস্টের হিসাব যুক্ত করলে বছরের শুরু থেকে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

দাবানলের ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কিছু এলাকায় বায়ুদূষণ ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970