এনসিপির নেতৃত্বে বড় রদবদল, ‘সুপার ইলেভেন’ থেকে আসছে ‘সুপার সিক্স’
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন নিজ নিজ পদে বহাল থাকছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার অথবা বুধবার পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। নেতাদের সাংগঠনিক তৎপরতা, কাজের অগ্রগতি ও দলের কার্যক্রমে অবদানের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেতে পারেন। অন্যদিকে সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ১১টি পদ নিয়ে গঠিত ‘সুপার ইলেভেন’ কাঠামো কমিয়ে ছয়টি পদে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ‘সুপার সিক্স’ নামে পরিচিত হতে পারে।
২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এনসিপি। শুরু থেকেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক, হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, দল গঠন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই চার নেতার ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বে থাকছেন যারা-
এনসিপির তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ১৬। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদাধিকারবলে এ পর্ষদের সদস্য। পুনর্গঠিত কাঠামোতেও তাদের পাশাপাশি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্ষদের অন্য ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা হলেন আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহউদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।
দলীয় সূত্র জানায়, যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিবদের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। বিশেষ করে দলের সহযোগী সংগঠন ও বিভিন্ন সেলের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন তারা।
‘সুপার ইলেভেন’ থেকে ‘সুপার সিক্স’
এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখ্য সমন্বয়ক, দুই মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, দুই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কসহ মোট ১১টি শীর্ষ পদ রয়েছে। নেতৃত্বের এই কাঠামো দলীয়ভাবে ‘সুপার ইলেভেন’ নামে পরিচিত।
কমিটি পুনর্গঠনের পর শীর্ষ নেতৃত্বের পদ ছয়টিতে সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি বাড়ানো সম্ভব হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত জানুয়ারিতে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়। সে সময় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে দলের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৭ সালের শুরুতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে তখন কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরে নতুন অনেকে দলে যুক্ত হওয়ায় তাদের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আরও কিছু পদ তৈরি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কাঠামো এখন পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলে দল মনে করছে।
নেতাদের কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান মনিরা শারমিন। তার ভাষ্য, দলের অনেক নেতা নিজেদের কাজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন। আবার কেউ কেউ প্রত্যাশা অনুযায়ী সক্রিয় ছিলেন না। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।